
মাগফিরাতের দশক শুরু: ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির অনন্য সুযোগ:
অলিউল্যাহ হাসনাইন
পবিত্র রমজান মাসের দ্বিতীয় দশক শুরু হয়েছে। ইসলামী পরিভাষায় এই দশ দিনকে বলা হয় মাগফিরাতের দশক—অর্থাৎ গুনাহ মাফের সময়। হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, রমজানের প্রথম দশ দিন রহমত, মাঝের দশ দিন মাগফিরাত এবং শেষ দশ দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য নির্ধারিত।
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মনে করেন, এ সময়টিতে বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার অতীত গুনাহ ক্ষমা করেন। বিশেষ করে সেহরি ও ইফতারের সময় দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই মসজিদগুলোতে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার আমেজ আরও বেড়ে গেছে।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, মাগফিরাতের এই দশক আত্মশুদ্ধি ও আত্মসমালোচনার শ্রেষ্ঠ সময়। ব্যক্তি জীবনের ভুল-ত্রুটি সংশোধন, মানুষের হক আদায় এবং সম্পর্কের অবনতি দূর করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত মাগফিরাত অর্জন সম্ভব।
এই দশকে যে আমলগুলো বেশি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়, তাহাজ্জুদ নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার পাঠ করা। বিশেষভাবে “আস্তাগফিরুল্লাহ” ও “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি” দোয়া পাঠের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ধর্মীয় বক্তারা বলেন, রমজানের প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। তবে মাগফিরাতের দশক এমন এক সুযোগ, যা একজন মুসলমানের জীবনকে বদলে দিতে পারে। আন্তরিক তওবা ও সৎকর্মের মাধ্যমে এই সময়কে কাজে লাগাতে পারলেই অর্জিত হতে পারে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও চিরস্থায়ী কল্যাণ।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।